হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক, ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ নানান অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার

হেলেনা জাহাঙ্গীর আটক, ক্যাসিনো সরঞ্জামসহ নানান অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার

রাজনীতি এখন উপরে উঠার সিঁড়ি, কিংবা নিজের অবস্থান ধরে রাখার অস্ত্র। বিভিন্ন সময় এমন অনেককেই পাওয়া যায়। নিকট অতীতের সাহেদ কিংবা পাপিয়ারা যার তাজা উদাহরণ। সম্প্রতি আরেকজনের বিরুদ্ধেও এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। যার নাম হেলেনা জাহাঙ্গীর। একজন গার্মেন্টস ব্যবসায়ীর স্ত্রী হিসেবে নিজেও ব্যবসায়ে জড়ানো, তার বিভিন্ন সংগঠন। তারই ধারাবাহিকতায় দেশের শীর্ষ স্থানীয় রাজনৈতিক দলে যোগদান। পেয়ে যান পদ পদবী। এবং খুব কম সময়েই দল থেকে বহিষ্কার। কারণ নতুন কিছু নয়, দলের নাম ভাঙিয়ে চাকরী বাণিজ্যসহ নানান অনিয়মের অভিযোগ। সত্য মিথ্যার প্রমাণ দিবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। তদন্ত চলছে। ইতিমধ্যে গতকাল রাত সোয়া ১২টার দিকে হেলেনা জাহাঙ্গীরকে আটক করে র‌্যাবের সদর দপ্তরে নেওয়া হয়। সন্ধ্যায় তার বাসায় অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অবৈধ সরঞ্জাম উদ্ধার করে র‍্যাব। সোয়া চার ঘণ্টা র‌্যাবের অভিযান শেষে বাসা থেকে কয়েক বোতল মদ, বিদেশি মুদ্রা, বন্য প্রাণীর চামড়া, ক্যাসিনোর সরঞ্জাম ও ওয়াকিটকি সেট উদ্ধার করা হয়।

টেলিভিশন চ্যানেলের মালিক হওয়া এখনকার সময়ে যেন কোন ব্যাপারী নয়। যে কেউ হয়ে যাচ্ছেন টিভি চ্যানেল মালিক। হেলেনা জাহাঙ্গীরেরও একটি টিভি চ্যানেল রয়েছে। যেটির নাম জয়যাত্রা টেলিভিশন। সূত্র মতে জানা যায়, তার টিভি চ্যানেলের কোন নিবন্ধন নেই।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, হেলেনা জাহাঙ্গীর বিভিন্ন বিতর্কিত ইস্যুতে কথা বলতে পছন্দ করেন। এসব ইস্যু নিয়ে তিনি ফেসবুক খুবই সচল। ফেসবুক পর্যালোচনা করে দেখা যায় তিনি বিভিন্ন সময় বিকৃত এবং সমালোচিত ব্যক্তি সেফুদাকে নিয়ে লাইভ প্রোগ্রাম করেছেন। সম্প্রীতি আলোচিত নায়িকা পরীমনি এবং ব্যবসায়ী নাসির ইস্যুতেও তাকে কথা বলতে দেখা যায়। তিনি পরীমনির ঘোর সমালোচনা করে নাসিরের পক্ষ নিয়ে অনেক গুলো ভিডিও প্রকাশ করেছেন। যা তার নিজ কর্মকাণ্ডের সাথেই মানানসই নয় বলে মন্তব্য করছেন নায়িকা পরীমনির ভক্তরা।

দেখা যাক হেলেনার গ্রেফতার তাকে কোন পর্যন্ত নিয়ে যায়। কারণ সোশ্যাল মিডিয়াতে অনেকেই মন্তব্য করছেন এই সমালোচনা এবং গ্রেফতার হয়তো তার জন্য সাপে বর হয়ে দাঁড়াবে, রাজনীতিতে হয়তো তৈরি হবে তার শক্ত অবস্থান। আবার কেউ কেউ বলছেন প্রশাসনের এমন অবস্থানের কারণে অন্যায় কমে যাবে অনেক হারে, কেউ আর এমন কর্মকাণ্ডে জড়ানোর সাহস পাবেনা। সে যাই হোক, সময় বলে দিবে। তবে সাধারণ মানুষ চায় রাজনৈতিক আশ্রয় এবং টাকার দাপটে কোন অপরাধী যেন ছাড় না পায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.