যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি,সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আকরামুল হাসান

যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটি,সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় আকরামুল হাসান

স্টাফ রিপোর্টারঃ নিজের মেধা,দক্ষতা আর যোগ্যতা দিয়ে বিএনপির তরুণ প্রজন্মের যে কয়জন নেতা দলের নিজস্ব কর্মী বাহিনী তৈরি করতে পেরেছেন ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক,বিএনপির নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আকরামুল হাসান তাদের অন্যতম।সংগঠন নিরাপদ রাখতে সংগঠকের বিকল্প নেই।আকরামুল হাসান দেশব্যাপী হাজার হাজার বিএনপির তরুণ নেতাকর্মী ও সমর্থক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।দলের চেয়ে ব্যক্তি বড় নয় কিন্তু দলে ব্যক্তির স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করতে প্রয়োজন মেধা, পরিশ্রম ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। প্রয়োজন কর্মীদের সাথে মিশে যাওয়া,প্রয়োজন তাদের সুখ দুঃখের কথা শোনা, যা করতে পেরেছেন বলেই আকরামুল হাসান বিএনপির তরুণ প্রজন্মের নেতাকর্মীদের মধ্যে তার একটা নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।

দেড়শতাধিক রাজনৈতিক মিথ্যা মামলার আসামি তিনি।মাসের পর মাস কাটিয়েছেন কারাগারে।পুলিশের নির্যাতনে,রিমান্ডে কেটেছে অগণিত রাত।সব তিনি নিরবে নিভৃতে সহ্য করেছেন একমাত্র এইদেশ ও দেশের মানুষকে ভালোবেসে,বিএনপিকে ভালোবেসে,জিয়া পরিবারকে ভালোবেসে,বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদকে ভালোবেসে।ওয়ান ইলেভেনের সেনাসমর্থিত ফখরুদ্দিন মঈনুদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় জিয়া পরিবারের উপর যখন জুলুম নির্যাতনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি চলছিল তিনি তখন একজন সাধারণ ছাত্রনেতা হিসাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
ছাত্রদলকে জিয়া পরিবারের পক্ষে সংগঠিত করতে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।২০০৭ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনে একটি সম্ভাব্য সামরিক শাসনকে রুখে দিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নেতৃত্ব দিয়েছেন।ওয়ান ইলেভেনের দুঃসময়ে বিএনপি ভাঙ্গার চূড়ান্ত পর্যায়ে ক্যাম্পাসেও যখন সংস্কারপন্থী ছাত্রদল তৈরির সরকারি আয়োজন চলছিল, আকরামুল হাসান তখন জিয়া পরিবারের প্রশ্নে ছিলেন আপোষহীন।বিন্দুপরিমাণ ছাড় দেননি তার অবস্থান থেকে।

দুই.
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিব হল ছাত্রদলের সভাপতি,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক থাকা অবস্থায় দলের জন্য তিনি যে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন তার প্রতিদানও দিয়েছে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক দেশনায়ক তারেক রহমান।এক পর্যায়ে বিএনপি তাকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেয়।আকরামুল হাসান ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলো সহ সংগঠনে কমিটি না হওয়ার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছিল তিনি তা দূর করতে সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন।তার হাত ধরেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল গুলোতে এক দশকের পর ছাত্রদলের কমিটি হয়।কাজটি সহজ ছিল না কিন্তু তা তিনি করে দেখিয়েছেন।ঐ সময়ের ছাত্রদলের সারাদেশে ১২০টি জেলা কমিটির মধ্যে ১১৭ জেলাতেই জেলা কমিটি গঠন করতে সক্ষম হন।ছাত্রদলের রাজনীতিতে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে তৃণমূলের সাধারণ নেতাকর্মীদের শক্তিশালী যোগাযোগ তার মত খুব কম নেতাই প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।সময়ে অসময়ে একজন ইউনিয়ন পর্যায়ের ছাত্রদলের কর্মীও তার সময়ে কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদকের সাথে কথা বলতে সক্ষম হয়েছে খুব সহজেই। বিএনপিতে নেতা আছে অনেক কিন্তু দক্ষ সংগঠক খুব কম,হাতে গোনা কয়েকজন, যাদের মাধ্যমে কর্মী তৈরি হয়।সংগঠনে নতুন কর্মী তৈরি করা, তাদের ধরে রাখতে পারা এবং সাধারণ নেতাকর্মীদের সাথে মিশে যাওয়াই একজন সাধারণ কর্মী থেকে আকরামুল হাসানকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন তরুণ সম্ভাবনাময়ী নেতায় পরিনত করেছে।

এসএসসি- এইচএসসিতে বোর্ডে স্ট্যান্ড করা,প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের মেধাবী শিক্ষার্থী আকরামুল হাসান চাইলে রাজনীতির বাইরে একটা নিরাপদ পেশায় খুব সহজে খুব ভালো বিলাসবহুল জীবন যাপন করতে পারতেন।কিন্তু দেশের প্রতি,দলের প্রতি আর জিয়া পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই তার রাজনীতির মতো এক অনিশ্চিত পথে যাত্রা শুরু।রাজনীতির এই কঠিন পথে চলতে গিয়ে দেশব্যাপী জাতীয়তাবাদী পরিবারের যে হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসা পেয়েছেন তাই তার আগামী দিনের পথচলার শক্তি, প্রেরণা,অবলম্বন।প্রতিটি মহানগর,জেলা,উপজেলা এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের যে ব্যাপক বিস্তৃত রাজনৈতিক যোগাযোগ রয়েছে সেটাকে কাজে লাগাতেই দলের প্রয়োজন তাকে তার রাজনৈতিক ক্যাপাসিটি কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি করে দেয়া।

আকরামুল হাসানের নেতৃত্বেই ছাত্রদল দীর্ঘ একযুগ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম শুরু করে যা এখনো চলছে। দেশনায়ক তারেক রহমান যখন ডাকসু নির্বাচনে অংশ গ্রহণে ছাত্রদলের করণীয় জানতে চাইলেন তখন অধিকাংশ নেতাকর্মীর বিরোধীতা সত্বেও ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে দেশনায়ক তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত বাস্তবে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।ডাকসুতে অংশ গ্রহণ ছিল ছাত্রদলের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত যা এখন বুঝা যাচ্ছে।ডাকসুতে যাওয়ার ফলেই ছাত্রদল এখনো ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক রাজনীতি করতে পারছে।যেখানে আকরামুল হাসানের ভূমিকা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদকের মেয়াদ শেষে তিনি নিজের পরবর্তী রাজনৈতিক পদ পদবীর কথা না ভেবে তারুণ্য নির্ভর ছাত্রদল গঠনে দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন। এখনো তার দিন শুরু হয় আদালত পাড়ায় মামলায় হাজিরা দিয়ে।দলের কর্মসূচী বাস্তবায়নে সদা তৎপর।
সারাদিন কাটে সংগঠন আর সংগঠন নিয়ে। ফুল টাইম পলিটিক্যাল এক্টিভিটিস্ট বলতে যা বুঝায় আকরামুল হাসান তাই।

বিএনপির আগামী দিনের লড়াইটা হবে অস্তিত্বের লড়াই। এমন সময়ে ২০২৩ সালে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে যখন বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া গৃহবন্দী, দেশনায়ক তারেক রহমান নির্বাসনে,পয়ত্রিশ লাখ নেতাকর্মীর নামে মিথ্যা মামলা।দেশী বিদেশি চক্রান্ত তো রয়েছেই।বাংলাদেশ আজকে যে পরিস্থিতির সম্মুখীন তার থেকে মুক্তির একমাত্র পথ রাজপথ।তারেক রহমান স্লোগান দিয়েছেন -বাংলাদেশ যাবে কোন পথে,ফয়সালা হবে রাজপথে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.